প্রশ্নঃ আস-সালামু আলাইকুম
_
আমাদের সমাজে একটা রসম ইদানীং চালু হয়েছে পাত্র-পাত্রী এনগেজমেন্ট (আংটি বদল) বা কথাবার্তা বলে বিয়ের ব্যাপারে ঠিক করে রাখা হয় এবং ২ মাস/৩ মাস ক্ষেত্রবিশেষে ৬ মাস পর্যন্ত আকদ হোল্ড করে রাখা হয় পাত্রীর ভাই-বোন/চাচা/মামা/ফুফু বিদেশ থেকে আসবেন এই অজুহাতে। কারো অযুহাত থাকে পরীক্ষার। এই সময়টাতে ব্যাপক একটা ফিতনার দ্বার উন্মোচিত হয়ে যায়। অনেক ফ্যামিলি এইসময় পাত্র/পাত্রী নিয়মিত যোগাযোগ করার সুযোগ করে দেয় এবং এটাকে খারাপ কিছুই ভাবে না। আমার প্রশ্ন হল এই ধরনের পরিস্তিতির উদ্ভব হলে গুনাহ থেকে এবং ফিতনা থেকে বাচার জন্য মেয়ে ওয়ালি বাদে বিয়ে করতে পারবে কিনা?? (ওয়ালিদের সম্মতি আছে বিয়ের তারিখ তারা নির্ধারণ করেছে ২ মাস পর)। যেহেতু ছেলেদের ওয়ালি লাগেনা তাই তাদের ব্যাপারটা উল্লেখ করলাম না। যদি এই ব্যাপারে ফতওয়া না দেয়া যায় তবে হযরতদের নিকট চাইব কিছু পরামর্শ দিতে যে, এইসব ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রী উভয়ের কি করনীয়?
_
উত্তরঃ ওয়ালাইকুম আস-সালাম
_
আমাদের সমাজে প্রচলিত এনগেজমেন্ট বলুন আর আংটি-বদল বা বাগদানই বলুন; এ সব কিছু হচ্ছে, স্রেফ বিবাহের ওয়াদা মাত্র৷ একজন উপযুক্ত ছেলের উপযুক্ত মেয়ের সঙ্গে বিবাহ সংঘটিত হওয়ার জন্যে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে বিবাহের তারিখ ধার্য্য করা পর্যন্ত শরীয়ত অনুমোদন করে৷ এর অতিরিক্ত আংটি বদল বা বাগদানের নামে আত্মীয়-স্বজন সবার উপস্থিতিতে একটা পুরুষ আরেকটা পর-নারীর হাতে ধরে আংটি পরানোর নামে যে অবৈধ ও অন্যায় কাজকে সামাজিকভাবে বৈধতা দানের যে সম্মিলিত পাপের বাজার খোলা হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে শয়তানের সফল ও কার্যকর ফাঁদ ছাড়া কিছু নয়৷ এখানে অনেকগুলো গোনাহ একসাথে সংঘটিত হয়, যা আমরা আঁচই করতে পারি না৷ একজন মেয়েকে কতজন পর-পুরুষ যে দেখে, তার কী কোনো হিসাব মিলবে? তাছাড়া যাদের বিবাহের দিন-ক্ষণ ধার্য্য হবে, তারাও তো শরীয়ত সম্মত আকদ ছাড়া পরস্পর স্বামী-স্ত্রী নয়৷ এটা তো স্রেফ বিবাহের ওয়াদার অনুষ্ঠান মাত্র৷
_
إن كان المجلس للوعد فوعد و إن كان للعقد فنكاح
. (ردالمحتار- ٤/٧٢)
_
"বৈঠক যদি ওয়াদা সংক্রান্ত হয়ে থাকে, তাহলে সেটি (কেবল) ওয়াদাই৷ আর বৈঠক যদি আকদের হয়ে থাকে, তাহলে সেটা-ই বিবাহ৷" (রদ্দুল মুহতার: ৪/৭২)
_
এরপর থেকে একটা ছেলে একটা মেয়ে বিবাহ বহির্ভূতভাবেই যেভাবে খোলামেলা চলাফেরা শুরু করে, যিনা পর্যন্ত সংঘটিত হয়ে যায়৷ সমাজ যাকে দোষের কিছু মনে করে না৷
_
এই মারাত্মক গোনাহ থেকে বাঁচার প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে, পরস্পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবার আগ পর্যন্ত যে কোনো রকমের যোগাযোগ পরিহার করে চলা৷ আল্লাহকে ভয় করা৷
_
প্রাপ্ত বয়স্ক সামাজিক স্ট্যাটাসে বরাবর দুইজন ছেলে-মেয়ের অভিভাবক ছাড়া বিয়ে করা সহীহ হলেও এরকম বিবাহ সম্পর্কে শরীয়ত নিরুৎসাহিত করে থাকে৷ কারণ এরকম সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে তাদের উভয়ের জন্যে কল্যাণ বয়ে আনে না৷ বরং অনেক কষ্ট ও ভোগান্তিতে পড়তে হয়৷ তবে একান্ত অপারগতায় এরকম বিবাহ হতেই পারে৷ অভিভাবক ছাড়া বিবাহ সহীহ হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই৷ কেননা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
_
الأيم أحق بنفسها من وليها
_
সাবালিকা মেয়ের নিজ বিয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার অভিভাবক অপেক্ষা তার নিজেরই বেশি। (সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৪২১; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২০৯৮; জামে তিরমিযী, হাদীস : ২০৯৮)
_
আমাদের সমাজে একটা রসম ইদানীং চালু হয়েছে পাত্র-পাত্রী এনগেজমেন্ট (আংটি বদল) বা কথাবার্তা বলে বিয়ের ব্যাপারে ঠিক করে রাখা হয় এবং ২ মাস/৩ মাস ক্ষেত্রবিশেষে ৬ মাস পর্যন্ত আকদ হোল্ড করে রাখা হয় পাত্রীর ভাই-বোন/চাচা/মামা/ফুফু বিদেশ থেকে আসবেন এই অজুহাতে। কারো অযুহাত থাকে পরীক্ষার। এই সময়টাতে ব্যাপক একটা ফিতনার দ্বার উন্মোচিত হয়ে যায়। অনেক ফ্যামিলি এইসময় পাত্র/পাত্রী নিয়মিত যোগাযোগ করার সুযোগ করে দেয় এবং এটাকে খারাপ কিছুই ভাবে না। আমার প্রশ্ন হল এই ধরনের পরিস্তিতির উদ্ভব হলে গুনাহ থেকে এবং ফিতনা থেকে বাচার জন্য মেয়ে ওয়ালি বাদে বিয়ে করতে পারবে কিনা?? (ওয়ালিদের সম্মতি আছে বিয়ের তারিখ তারা নির্ধারণ করেছে ২ মাস পর)। যেহেতু ছেলেদের ওয়ালি লাগেনা তাই তাদের ব্যাপারটা উল্লেখ করলাম না। যদি এই ব্যাপারে ফতওয়া না দেয়া যায় তবে হযরতদের নিকট চাইব কিছু পরামর্শ দিতে যে, এইসব ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রী উভয়ের কি করনীয়?
_
উত্তরঃ ওয়ালাইকুম আস-সালাম
_
আমাদের সমাজে প্রচলিত এনগেজমেন্ট বলুন আর আংটি-বদল বা বাগদানই বলুন; এ সব কিছু হচ্ছে, স্রেফ বিবাহের ওয়াদা মাত্র৷ একজন উপযুক্ত ছেলের উপযুক্ত মেয়ের সঙ্গে বিবাহ সংঘটিত হওয়ার জন্যে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে বিবাহের তারিখ ধার্য্য করা পর্যন্ত শরীয়ত অনুমোদন করে৷ এর অতিরিক্ত আংটি বদল বা বাগদানের নামে আত্মীয়-স্বজন সবার উপস্থিতিতে একটা পুরুষ আরেকটা পর-নারীর হাতে ধরে আংটি পরানোর নামে যে অবৈধ ও অন্যায় কাজকে সামাজিকভাবে বৈধতা দানের যে সম্মিলিত পাপের বাজার খোলা হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে শয়তানের সফল ও কার্যকর ফাঁদ ছাড়া কিছু নয়৷ এখানে অনেকগুলো গোনাহ একসাথে সংঘটিত হয়, যা আমরা আঁচই করতে পারি না৷ একজন মেয়েকে কতজন পর-পুরুষ যে দেখে, তার কী কোনো হিসাব মিলবে? তাছাড়া যাদের বিবাহের দিন-ক্ষণ ধার্য্য হবে, তারাও তো শরীয়ত সম্মত আকদ ছাড়া পরস্পর স্বামী-স্ত্রী নয়৷ এটা তো স্রেফ বিবাহের ওয়াদার অনুষ্ঠান মাত্র৷
_
إن كان المجلس للوعد فوعد و إن كان للعقد فنكاح
. (ردالمحتار- ٤/٧٢)
_
"বৈঠক যদি ওয়াদা সংক্রান্ত হয়ে থাকে, তাহলে সেটি (কেবল) ওয়াদাই৷ আর বৈঠক যদি আকদের হয়ে থাকে, তাহলে সেটা-ই বিবাহ৷" (রদ্দুল মুহতার: ৪/৭২)
_
এরপর থেকে একটা ছেলে একটা মেয়ে বিবাহ বহির্ভূতভাবেই যেভাবে খোলামেলা চলাফেরা শুরু করে, যিনা পর্যন্ত সংঘটিত হয়ে যায়৷ সমাজ যাকে দোষের কিছু মনে করে না৷
_
এই মারাত্মক গোনাহ থেকে বাঁচার প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে, পরস্পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবার আগ পর্যন্ত যে কোনো রকমের যোগাযোগ পরিহার করে চলা৷ আল্লাহকে ভয় করা৷
_
প্রাপ্ত বয়স্ক সামাজিক স্ট্যাটাসে বরাবর দুইজন ছেলে-মেয়ের অভিভাবক ছাড়া বিয়ে করা সহীহ হলেও এরকম বিবাহ সম্পর্কে শরীয়ত নিরুৎসাহিত করে থাকে৷ কারণ এরকম সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে তাদের উভয়ের জন্যে কল্যাণ বয়ে আনে না৷ বরং অনেক কষ্ট ও ভোগান্তিতে পড়তে হয়৷ তবে একান্ত অপারগতায় এরকম বিবাহ হতেই পারে৷ অভিভাবক ছাড়া বিবাহ সহীহ হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই৷ কেননা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
_
الأيم أحق بنفسها من وليها
_
সাবালিকা মেয়ের নিজ বিয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার অভিভাবক অপেক্ষা তার নিজেরই বেশি। (সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৪২১; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২০৯৮; জামে তিরমিযী, হাদীস : ২০৯৮)
No comments:
Post a Comment